পরিশিষ্ট – হাসান

একাকি রাজপথে নিঃসঙ্গ পথচলা
পথের অন্তরালে তুমি আর তোমার ছায়া;
নিস্তব্ধ দ্রোহের মায়াজালে
শূন্যতার প্রতিশ্রুতি তুমি
অন্ধকার, চারিদিকে অন্ধকার।

চারুশিল্পের অস্পৃশ্য ছোঁয়ায়
সিক্ত হৃদয় আমার;
ধ্রুপদী নৃত্যের মায়াবি আঘাতে
ঝরে পরছে ছেলেবেলার স্বপ্নগুলো
আর তারি সাথে তুমিও।

তোমায় লেখা শেষ চিঠিটি
সময়ের বিড়ম্বনায় অসমাপ্তই রয়ে গেলো
তাই বিবর্তনের মাঝেও অসম্পূর্ণ আজ
এই ‘আমি’।

Advertisements

সুনয়না ছায়ামানবী – জাকির হাসান

মাঝরাতে ছায়ামানব রাতপ্রহরী আমি
ঘুমিয়ে বন্ধু আমার একান্তে হৃদয়ে
আকাশের নীল মুছে রুপালি আলো
বন্ধুগল্পে স্বপ্নমাঝে প্রদীপ তুমি জালো
যদি মেঘলা ক্ষণে আকাশের জলে
কোনো অবলা আখিজল ঝরে,
ও আমার অভিমানী কিছু অনুভুতি
জীবন থেকে হারিয়ে যেয়েও ফিরে আসে

যদি কখনো একাকী সময় কাটে
বুঝে নিও আমার অধ্যায় নিঃসঙ্গ
ইচ্ছেঘুড়ি এলোমেলো দুরে কোথাও
কোন সে সুনয়না আমায় ভালোবেসে
দুঃখের প্রহরে সুখের ছোয়ায়
বিষন্ন হৃদয়ে এক মুহূর্ত স্পর্শে
আকাশনীলা তারার মেলায় তুমি
চিরন্তন ছায়ামানবী তুমি

ঘুড়ি – জামিল আশরাফ

দেয়ালে টাঙ্গানো যে ঘুড়িটি,
তা আর উড়বে না আকাশে।
দেখতে দেখতে সাদা রঙ্গা সে
ঘুড়িটি হয়ে যাবে ফ্যাকাশে।
আস্তে আস্তে জমবে ধূলো তাতে,
এক সময় বার্ধক্যের মত চিড়
ধরে তা হয়ে যাবে ধ্বংস-নিবিড়;
এইযে দেখছেন এই ঘুড়িটি,
তা আর উড়বে না আকাশে।
কারণ, এ ঘুড়িটি যে উড়াতো
সে-ই উড়ে গেছে আকাশে।

তুমি – রাজদ্বীপ দত্ত

যখন আঁধারেরা নামে,
তোমার প্রতিক্ষার শোকগাথায়-
তখন আমি অর্ধনিমগ্ন ।
গলা চিপা ঘুপচি আঁধারে
স্মৃতির জাবর কাটি ।
ওই জনাকীর্ণ নিস্তব্ধতায়
তুমি মনে রেখো আমায় ।
আলোময় ওই বিশাল গোলকধাধায় হয়তো হারাবো
কিন্তু তুমি মনে রেখো আমায় ।
আবার যখন নিভে যাবে আলো ;
যখন ওই অলস আলোটাকে-
বুভুক্ষের মতো গিলবে আঁধার
“রাতজাগা পাখি”,
তুমি ভুলে যেয়ো না আমায় ।
যেদিন তোমার মনের চাতক পাখিটা
মুক্ত হয়ে উড়বে,
ওই সাদা মেঘেদের দলে-
তুমি মনে রাখবে তো আমায়!
গুটিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত
শামুকের মতো
হয়তো খোলসবন্দি হবো শীঘ্রই!
সেদিন
তুমি ভুলে যাবে নাতো আমায়?

তোকে নিয়ে… এলোমেলো – হাবীব কাশফি

নিঃসঙ্গতার সাথে সখ্য গড়েছিলাম ভালোই,
তারপর…

চোখে মোটা গ্লাসের চশমা
রুক্ষ চুলের লুকোচুরি
আর তার বন্য হাসির উচ্ছলতা,
ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো কবিতা,
এলোমেলো বন্য কবিতা।

আগুনঝরা ফাগুনে ঝাপসা চোখে
বাসন্তি শাড়ি জড়িয়ে খুজেছিলি আমাকে
হাজারো ভীড়ের মাঝে,
রঙ্গিন বৈশাখের তপ্ত রৌদ্দুরের নিঃস্বঙ্গতায়
হারিয়ে ফেলেছি তোকে
হাজারো রঙের ভীড়ে,
ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো আরো একটি কবিতা
এলোমেলো রঙ্গিন কবিতা।

তোর আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল জড়িয়ে
ইচ্ছে ছিলো কাটাবো কতো অলস দুপুর,
তুই চেয়েরবি আমার চোখে
মোটা গ্লাসের চশমার ফাকে,
ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো একটি কবিতা
এলোমেলো অলস দুপুরের কবিতা।

একটি বর্ষা পেরিয়ে যায়
অঝোর বর্ষনে বিষন্নতার চাদর হয়ে,
শরতের স্নিগ্ধ বিকেলে
হাটবো কি দুজন আবারো একই ধারে?

অচেনা পথের ধুলো মাড়িয়ে
আঙ্গুলের ফাকে আঙ্গুল জড়িয়ে,
সেই মোটা গ্লাসের চশমা চোখে
পাড় হবে কতো শত গোধূলী বেলা।
ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো গোধুলি মাখা একটি কবিতা,

শত শত কবিতা

এলোমেলো কবিতা

কিছু তুচ্ছ কবিতা।