রবীন্দ্রনাথ – আল মাহমুদ

al_mahmud

এ কেমন অন্ধকার বঙ্গদেশ উত্থান রহিত
নৈশব্দের মন্ত্রে যেন ডালে আর পাখিও বসে না।
নদীগুলো দুঃখময়, নির্পতগ মাটিতে জন্মায়
কেবল ব্যাঙের ছাতা, অন্যকোন শ্যামলতা নেই।
পুরোটা পড়ুন

এসো হে বৈশাখ এসো এসো – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ
তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।

সোনার তরী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান-কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা–
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা॥

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা—
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসী-মাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা—
এপারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা॥

গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে!
দেখে যেন মনে হয়, চিনি উহারে।
ভরা পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু ধারে—
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে॥

ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্‌ বিদেশে?
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
যারে খুশি তারে দাও—
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে॥  

যত চাও তত লও তরণী-পরে।
আর আছে?— আর নাই, দিয়েছি ভরে॥
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে—
এখন আমারে লহো করুণা ক’রে॥

ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই, ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহি নু পড়ি—
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী॥

অনন্ত প্রেম – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার,
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।

পুরোটা পড়ুন

সোজাসুজি -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হৃদয়-পানে হৃদয় টানে, নয়ন-পানে নয়ন ছোটে-
দুটি প্রাণীর কাহিনীটা এইটুকু বৈ নয়কো মোটে।
শুক্লসন্ধ্যা চৈত্রমাসে হেনার গন্ধ হাওয়ায় ভাসে,
আমার বাঁশি লুটায় ভূমে, তোমার কোলে ফুলের পুঁজি-
তোমার আমার এই-যে প্রণয় নিতান্তই এ সোজাসুজি।।

বসন্তীরঙ বসনখানি নেশার মতো চক্ষে ধরে,
তোমার গাঁথা যূথীর মালা স্তুতির মতো বক্ষে পড়ে;
একটু দেওয়া, একটু রাখা, একটু প্রকাশ, একটু ঢাকা,
একটু হাসি, একটু শরম- দুজনের এই বোঝাবুঝি
তোমার আমার এই-যে প্রণয় নিতান্তই এ সোজাসুজি।।

মধুমাসের মিলন-মাঝে মহান্ কোনো রহস্য নেই,
অসীম কোনো অবাধ কথা যায় না বেধে মনে-মনেই।
আমাদের এই সুখের পিছু ছায়ার মত নাইকো কিছু,
দোঁহার মুখে দোঁহে চেয়ে নাই হৃদয়ের খোঁজাখুঁজি।
মধুমাসে মোদের মিলন নিতান্তই এ সোজাসুজি।।

ভাষার মধ্যে তলিয়ে গিয়ে খুঁজি নে, ভাই, ভাষাতীত।
আকাশ-পানে বাহু তুলে চাহি নে, ভাই, আশাতীত!
যেটুকু দিই যেটুকু পাই তাহার বেশি আর-কিছু নাই-
সুখের বক্ষ চেপে ধরে করি নে কেউ যোঝাযুঝি।
মধুমাসে মোদের মিলন নিতান্তই এ সোজাসুজি।।

শুনেছিনু প্রেমের পাথার, নাইকো তাহার কোন দিশা-
শুনেছিনু প্রেমের মধ্যে অসীম ক্ষুধা, অসীম তৃষা।
বীণার তন্ত্রী কঠিন টানে ছিঁড়ে পড়ে প্রমের তানে,
শুনেছিনু প্রেমের কুঞ্জে অনেক বাঁকা গলিঘুঁজি।
আমাদের এই দোঁহার মিলন নিতান্তই এ সোজাসুজি।।